জলবায়ু সংকট ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে কফির দাম

বিশ্বব্যাপী কফির দাম বেশ কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।

বিশ্বব্যাপী কফির দাম বেশ কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞ ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা পণ্যটির দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছার পেছনে ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কিছু বাজার বিশেষজ্ঞ বলছেন, চলমান জলবায়ু ও ভূরাজনৈতিক সংকট আগামী দিনগুলোয় কিছুটা কমতে পারে। তবে এ সময় কফির দামে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে। এতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগবেন ক্ষুদ্র চাষীরা।

নিউইয়র্কে অ্যারাবিকা কফির দাম গত ১০ ডিসেম্বর ৯০ শতাংশ বেড়ে পাউন্ডপ্রতি ৩ ডলার ৪৮ সেন্টে পৌঁছেছিল। রোবাস্তা কফির দামও একই হারে বেড়েছে।

বিশ্বে শীর্ষ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ যথাক্রমে ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম। এ দুই দেশে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় দাম ক্রমে বাড়ছে। এছাড়া কয়েক বছর ধরে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বাড়ছে। নিজেদের মজুদ নিশ্চিতে বিনিয়োগ আরো বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এটিও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রাবোব্যাংকের কফি বিশ্লেষক কার্লোস মেরা বলেন, ‘লোহিত সাগরপথে পরিবহনসংক্রান্ত উদ্বেগ কফির দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপে যেতে আফ্রিকা অতিক্রম করতে হয়। এছাড়া বন্দরগুলোয় প্রায়ই দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় এ পথে সময় বেশি প্রয়োজন হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘কফির দাম সামনের দিনগুলোয়ও ঊর্ধ্বমুখিতা ধরে রাখবে। কারণ বাজারে পণ্যটির মজুদ অনেক কম।’

বনভূমি ধ্বংস হয় এমন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এটিও কফির বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। যদিও এ আইন কার্যকর করার তারিখ আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়েছে ইইউ।

কফির বৈশ্বিক বাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিও অনিশ্চয়তা যোগ করেছে। ডিসেম্বরে জো বাইডেনের এক শীর্ষ উপদেষ্টা সতর্ক করেছিলেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত কফির মতো খাদ্যপণ্যগুলোর বাজার প্রভাবিত হতে পারে।

অ্যারাবিকা কফি অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলে ভালো জন্মায়। তাই এ পণ্য উৎপাদনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ফ্রান্সের সিআইআরএডি এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির গিলম সি ডেভিড বলেন, ‘দুটি প্রজাতির কফি চাষ করতে গিয়েই নতুন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মৌসুম ছাড়া অন্যান্য সময়ে তুষারপাত, অসময়ে বৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ। এমনকি ব্রাজিল ও ভিয়েতনামের মতো দেশেও বর্তমানে আমরা এসব ঝুঁকি দেখছি।’

সি ডেভিড আরো বলেন, ‘সরবরাহের ঝুঁকি এড়াতে প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চল ছাড়া অন্যান্য দেশে কফি চাষ শুরু করা যেতে পারে।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রেই এর চাষ পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সূর্য ও ঝড় থেকে সুরক্ষা পেতে পর্যাপ্ত ছায়াপথ এবং কীটপতঙ্গ থেকে রক্ষা পেতে বহু ফসল চাষের ব্যবস্থা করা যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২৪-২৫ চাষ মৌসুমে আনুমানিক ১৭ কোটি ৫০ লাখ টন ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি বা ১৩২ পাউন্ড) কফি উৎপাদন হতে পারে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ অ্যারাবিকা ও ৪৪ শতাংশ রোবাস্তা কফি থাকতে পারে।

আরও